Header Ads

বীরপাড়ায়ে আবগারি দপ্তরের অভিযান, বিপুল পরিমাণ ভুটান মদ উদ্ধার

বীরপাড়ায়ে আবগারি দপ্তরের অভিযান, বিপুল পরিমাণ ভুটান মদ উদ্ধার

আলিপুরদুয়ার: নববর্ষের আগে অবৈধ মদ পাচার রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল আবগারি দপ্তর। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গোপন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে জয়গাঁ আবগারি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মো. জাকির হুসেন-এর নেতৃত্বে একটি পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়। গোটা অভিযানটি আলিপুরদুয়ার জেলার আবগারি সুপারিনটেনডেন্ট শ্রী উগেন ছেওয়াং-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

আবগারি সূত্রে জানা গেছে, বীরপাড়া সার্কেলের সাব-ইন্সপেক্টর শ্রী সুখদেব বসাক প্রণীত পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং আলিপুরদুয়ার আরপিইউ-এর ওসি শ্রী সৌরভ শর্মা-র সহযোগিতায় একটি যৌথ রেইডিং টিম গঠন করা হয়। এই দলে আলিপুরদুয়ার সার্কেল ও আরপিইউ, জয়গাঁ আবগারি থানা, কালচিনি ও বীরপাড়া সার্কেলের আধিকারিক ও কর্মীরা অংশ নেন। Ad1

অভিযান চালানো হয় বীরপাড়া এলাকার সিংহানিয়া চা বাগানের নিচালাইন অঞ্চলের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। তল্লাশির সময় বাড়ির ভিতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। সমস্ত আইনি বিধি মেনে তল্লাশি ও জব্দের পর বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ভুটানের মদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

  • ভুটান হুইস্কি: ৭১টি কার্টন (প্রতিটিতে ১২টি করে ৭৫০ মিলি পেট বোতল), মোট ৬৩৯ লিটার

  • থান্ডার ১৫০০০ বিয়ার: ১২টি কার্টন (প্রতিটিতে ১২টি করে ৬৫০ মিলি কাঁচের বোতল), মোট ৯৩.৬ লিটার

সব মিলিয়ে মোট ৭৩২.৬ লিটার অবৈধ মদ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলেই জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নমুনা বোতল সংগ্রহ করে সিলমোহর দেওয়া হয়। Ad2

গোপন সূত্রের খবর অনুযায়ী, নববর্ষ উপলক্ষে স্থানীয় এলাকায় সরবরাহের জন্য এই মদ মজুত করেছিল বিরেন্দ্র ভুজেলভগবান দাস। উল্লেখযোগ্য যে, বিরেন্দ্র ভুজেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আগেই একটি আবগারি মামলায় (CR No. 1854/25) অভিযুক্ত। ওই মামলার পর থেকেই ভগবান দাসকে সঙ্গী করে তারা পরিত্যক্ত বাড়িতে মদ মজুত করে ধাপে ধাপে পাচার করছিল বলে অনুমান। তদন্তকারীদের মতে, তারা বীরপাড়া এলাকার একটি সক্রিয় অবৈধ মদ পাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

আবগারি দপ্তর জানিয়েছে, BNSS, ২০২৩ অনুযায়ী সম্পূর্ণ তল্লাশি ও জব্দ প্রক্রিয়া অডিও-ভিজুয়াল মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উদ্ধার হওয়া মদের মোট আনুমানিক মূল্য ১৬ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩০০ টাকা বলে জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.